গানে ভৌগোলিক কোনো সীমারেখা নেই: সুরজিৎ চ্যাটার্জি

Filed under: গ্যালারি,ফিচার |

বাংলা লোকগীতির শহুরে উপস্থাপনে কলকাতার যে কয়েকটি গানের দল এখন অগ্রণী ভূমিকায়, তাদের মধ্যে সবার সামনে আছে ‘ভূমি’। শহরের প্রাত্যহিক জীবন যাপনের ছোটখাটো ঘটনা, ভাবাবেগ, হাস্যরস, সমাজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ চালচিত্রের লোকায়িত উপস্থাপন হয় ভূমির গানে। প্রচলিত লোকগানের একটি নতুন ধারা তৈরি করে আপামর শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে ভূমি, যা দুই বাংলার মানুষের গান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এসেছিল এই ভূমি। বাংলাদেশ ছাড়ার প্রাক্কালে ঢাকা ক্লাবের অতিথিশালায় কথা হয় ভূমির প্রধান গায়ক সুরজিৎ চ্যাটার্জির সঙ্গে।
আলাপকালে তিনি জানান, এর আগেও তাঁরা একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু সেটা ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য। এবারের সফরে তাঁরা অনেক বেশি সময় পেয়েছেন বলে জানালেন। তা ছাড়া এবারের সফরে তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেছেন। দেখেছেন রাজধানী ঢাকার সৌন্দর্য। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা তাঁদের সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। কার্জন হল, অপরাজেয় বাংলা ও টিএসসির সৌন্দর্যে ভূমির সব সদস্যই মুগ্ধ।
সুরজিৎ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে গানের লিরিক্যাল কনটেন্ট অসাধারণ। এত ভালো বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের গানগুলো ভাবা হয়, যা এক কথায় অসাধারণ। তবে আমার কাছে মনে হয়, আমাদের ওখানে বিষয়টির অভাব রয়েছে। গতবার আমি যখন বাংলাদেশে এসেছিলাম, প্রায় ২৫টি বাংলা গানের সিডি সংগ্রহ করেছিলাম। এবারও আমি বেশ কয়েকটি ক্যাসেট কোম্পানির দাওয়াতে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তারা আমাকে এবারও বেশ কয়েকটি সিডি উপহার দিয়েছে। আমি আসলে এতে বেশ অনুপ্রাণিতই হয়েছি। আমার কাছে মনে হয়, সবকিছুরই একটা সীমারেখা আছে, কিন্তু গানের ক্ষেত্রে এটা কোনোভাবেই কাজ করে না। এমন সীমারেখা কোনো সংস্কৃতিমনা মানতে রাজি নয়। রাজনৈতিক এবং অন্যান্য বিষয়ে ভৌগোলিক সীমারেখা কাজ করলেও গানের ক্ষেত্রে সেটা পুরোপুরিই কাল্পনিক।
‘তা ছাড়া আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশের গানের কথায় স্বপ্নের কথাটা ভালোভাবেই প্রতিফলিত হয়। এই যেমন এবার যখন এয়ারপোর্ট থেকে গাড়িতে আসছিলাম, তখন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি শিল্পীর গান শুনেছি। আমার অনেক ভালো লেগেছে।’
সুরজিৎ বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক শিল্পীর গান ভূমির সবারই খুব পছন্দের। এঁদের মধ্যে কৃষ্ণকলির গান আমার কাছে খুব পছন্দের। তাঁর গানের কথাগুলোও বেশ চমত্কার। আমি সর্বশেষ ‘মনপুরা’ ছবির গান শুনেছি। অসাধারণ লেগেছে গানগুলো। আইয়ুব বাচ্চুর গিটারের ভীষণ ভক্ত আমি। গিটার অনেককেই বাজাতে দেখেছি, কিন্তু তাঁর মতো এত পরিষ্কার হাত আমি কখনো দেখিনি। কলকাতায় স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের কাছে জেমস একটা বিশাল আদর্শের জায়গায় অবস্থান করছেন। মাইলসের গানও আমার কাছে অনেক ভালো লাগে।’
উল্লেখ্য, এরই মধ্যে কলকাতার ব্যান্ড দল ভূমির ১১টি অ্যালবাম বাজারে এসেছে। ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করা ব্যান্ড দলটি শিগগিরই তাদের পরবর্তী নতুন অ্যালবামের কাজ শুরু করবে বলেও জানান সুরজিৎ। এ জন্য গানের কথা থেকে শুরু করে সবকিছুই তৈরি হয়ে আছে। অ্যালবামটি হবে প্রচলিত লোকগীতি অথবা রবীন্দ্রসংগীতের। তা ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গেও কাজের কথাবার্তা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই এ বিষয়েও একটি চূড়ান্ত আলোচনা হবে। ভূমিরও দীর্ঘদিনের ইচ্ছা বাংলাদেশের সঙ্গে একটা কিছু করার। আলাপকালে আরও জানা যায়, শিগগিরই ভূমির আবার বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা আছে।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১০

Tags: , , , , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>